মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা: এই ৫টি বিষয় না জানলে বড় ভুল করবেন!

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা: এই ৫টি বিষয় না জানলে বড় ভুল করবেন!

webmaster

몰타 의료 시스템 - **Modern Public Hospital Scene:** A wide, bright, and impeccably clean interior shot of Mater Dei Ho...

বন্ধুগণ, কেমন আছেন সবাই? আশা করি দারুণ আছেন! আজকাল অনেকেই তো বিদেশে পাড়ি জমানোর কথা ভাবছেন, তাই না?

আর বিদেশে যাওয়ার কথা উঠলেই সবার আগে যে প্রশ্নটা মাথায় আসে, সেটা হলো সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা কেমন? বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো নিয়ে আমাদের কৌতূহলটা একটু বেশিই থাকে। আমি নিজেও যখন মাল্টা নিয়ে প্রথমবার জানতে শুরু করি, তখন এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আমার মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, মাল্টা আকারে ছোট হলেও তাদের স্বাস্থ্যসেবা কিন্তু বেশ উন্নত মানের। পাবলিক আর প্রাইভেট – দুই ধরনের সেবাই এখানে পাওয়া যায়। কিন্তু আসলে কতটা আধুনিক, প্রবাসীরা কী ধরনের সুবিধা পান, বা সেখানকার বর্তমান ট্রেন্ডগুলো কী – এসব নিয়ে একটা ধোঁয়াশা থেকেই যায়। আমার মনে হয়েছে, এই সব প্রশ্নের একটা সহজ, সরল এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দরকার। আজকালকার দ্রুতগতির জীবনে স্বাস্থ্যসেবার মান বোঝাটা খুব জরুরি, কারণ সুস্থ না থাকলে কোনো কিছুই যেন ভালো লাগে না।আসুন, আমরা মাল্টার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে সব খুঁটিনাটি একদম পরিষ্কার করে জেনে নিই!

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই?

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবার দুটি দিক: সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থা

몰타 의료 시스템 - **Modern Public Hospital Scene:** A wide, bright, and impeccably clean interior shot of Mater Dei Ho...

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাটা মূলত দুটো ভাগে বিভক্ত – সরকারি এবং বেসরকারি। অনেকটা আমাদের দেশের মতোই, তবে ওদের পরিষেবা আর মানের দিক থেকে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। আমি যখন প্রথম মাল্টায় আসি, তখন সরকারি হাসপাতালের ভিড় দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, এখানকার সরকারি হাসপাতালগুলো, যেমন ‘Mater Dei Hospital’, আধুনিক সব সরঞ্জাম আর অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ভরা। সত্যি বলতে, Mater Dei হাসপাতাল ইউরোপের অন্যতম বড় একটা মেডিক্যাল কমপ্লেক্স। মজার ব্যাপার হলো, এখানকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো (Health Centres) দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে, যা সাধারণ অসুস্থতার জন্য দারুণ কার্যকরী। এখানে জরুরি অবস্থার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও আছে, যা European Health Insurance Card (EHIC) থাকলে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা মাল্টার বাসিন্দাদের জন্য, যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি কন্ট্রিবিউশন দেন, তাদের জন্য প্রায় বিনামূল্যে। আমার এক বন্ধু সম্প্রতি Mater Dei হাসপাতালে তার ছোটখাটো একটি সার্জারি করিয়েছে, আর সে আমাকে বলছিল যে তাকে শুধুমাত্র কিছু ওষুধের জন্য টাকা দিতে হয়েছে, বাকি সব খরচ সরকার বহন করেছে। এটা সত্যিই অসাধারণ একটা ব্যাপার, বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের দেশের চিকিৎসা খরচের কথা ভাবি। তবে, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য বা কোনো বিশেষ পরীক্ষা করানোর জন্য অপেক্ষার সময়টা একটু বেশি হতে পারে। অনেকেই এর জন্য ধৈর্য্য হারাতে পারেন। বিশেষ করে যারা দ্রুত চিকিৎসা চান, তাদের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ বটে। জরুরি বিভাগ অবশ্য সবসময় খোলা থাকে, আর আমি শুনেছি সেখানকার কর্মীরা দারুণ দক্ষ। একবার আমার পরিচিত একজন ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়েছিল, তাকে সঙ্গে সঙ্গে Mater Dei-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, জরুরি অবস্থার জন্য এখানকার সরকারি ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প ও খরচ

সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি মাল্টায় বেশ কিছু উন্নত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে, যেমন ‘Saint James Hospital Group’ বা ‘DaVinci Hospital’। আমার মনে হয়েছে, যারা দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট চান বা অপেক্ষার ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের জন্য বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা একটা দারুণ বিকল্প। যদিও এখানে চিকিৎসা খরচটা সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেশি, তবে গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হয় না। আমার এক সহকর্মী সম্প্রতি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে দাঁতের চিকিৎসা করিয়েছেন এবং তিনি সেবার মান নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটাই খুব মসৃণ ছিল। এখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারও পাওয়া যায়, যেখানে আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ডাক্তার দেখাতে পারবেন। তবে, বেসরকারি চিকিৎসায় খরচ বেশি হওয়ায় অনেকেই স্বাস্থ্য বীমা করে রাখেন। আমি নিজেও একটা বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা করিয়েছি, কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অসুস্থতায় যাতে আর্থিক চাপ না পড়ে, সেটা আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম।

প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা: কেন জরুরি?

মাল্টায় বসবাসকারী প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা থাকাটা একরকম বাধ্যতামূলক। আপনারা তো জানেন, নতুন দেশে এসে সুস্থ থাকাটা কতটা জরুরি। আমি নিজেও যখন মাল্টায় পাড়ি জমাই, তখন স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি। সত্যি বলতে, একটা ভালো স্বাস্থ্য বীমা আপনার বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতাটাকে অনেক সহজ করে দেয়। মাল্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা করার পরামর্শ দেয়। আমি দেখেছি, এখানকার বিভিন্ন বীমা কোম্পানি প্রবাসীদের জন্য নানা ধরনের প্ল্যান অফার করে। কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, সেটা আপনার প্রয়োজন আর বাজেটের ওপর নির্ভর করে।

বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য বীমা এবং তাদের বৈশিষ্ট্য

মাল্টায় প্রবাসীদের জন্য সাধারণত দুই ধরনের স্বাস্থ্য বীমা পাওয়া যায়: ট্র্যাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স (ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা) এবং ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স (আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা)। ট্র্যাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য কার্যকরী, যেমন ভিসার আবেদনের সময় বা প্রথম কয়েক মাসের জন্য। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাল্টায় থাকতে চান, তাহলে ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ অনেক বেশি বিস্তৃত হয়। এতে শুধু জরুরি চিকিৎসাই নয়, নিয়মিত ডাক্তারের ভিজিট, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের খরচও কভার করে। কিছু কিছু বীমা পলিসি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চিকিৎসা কভারেজ দেয়, যা প্রবাসীদের জন্য দারুণ একটা সুবিধা। আমি নিজে একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা নিয়েছি, যেখানে মাল্টা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের জন্য কভারেজ আছে। এতে আমার মনে একটা শান্তি থাকে যে, কোনো সমস্যা হলে আর্থিক চিন্তা করতে হবে না।

বীমা নির্বাচনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

স্বাস্থ্য বীমা বেছে নেওয়ার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা খুব জরুরি। প্রথমত, কভারেজের সীমাটা দেখে নেবেন। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কভারেজ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করুন। দ্বিতীয়ত, বীমার প্রিমিয়াম বা মাসিক/বার্ষিক খরচটা আপনার বাজেটের মধ্যে আছে কিনা, তা যাচাই করুন। তৃতীয়ত, বীমা কোম্পানির সুনাম আর তাদের কাস্টমার সার্ভিস কেমন, সেটাও জেনে নেওয়া ভালো। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন বীমা করেছিলাম, তখন একটি পরিচিত কোম্পানির হেল্পলাইনে ফোন করে অনেক প্রশ্ন করেছিলাম। তারা খুব ধৈর্য ধরে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল, যা আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া, বীমার শর্তাবলী (terms and conditions) ভালোভাবে পড়ে নিন। কোন ধরনের চিকিৎসা কভার হবে আর কোনটি হবে না, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। residency card (রেসিডেন্সি কার্ড) আবেদনের জন্য সঠিক বীমা পলিসি থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল বীমার কারণে আবেদন বাতিলও হতে পারে।

Advertisement

জরুরি পরিষেবা এবং বিশেষায়িত যত্ন: কী আশা করবেন?

জীবন তো! কখন কী ঘটে বলা যায় না। তাই মাল্টায় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কেমন, সেটা জেনে রাখা খুব জরুরি। এখানকার জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী। যখনই আমার কোনো পরিচিত জনের হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি, দেখেছি সেখানকার জরুরি দলগুলো দ্রুত সাড়া দিয়েছে। সরকারি Mater Dei হাসপাতালই হলো মাল্টার প্রধান জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র। আমি মনে করি, যে কোনো প্রবাসীর জন্য এখানকার জরুরি ফোন নম্বরগুলো (যেমন ১১২) মুখস্থ রাখাটা ভীষণ দরকার।

জরুরি অবস্থায় যা করবেন

যদি কোনো জরুরি অবস্থা তৈরি হয়, তবে দ্বিধা না করে ১১২ নম্বরে ফোন করুন। আমার এক বন্ধু একবার হঠাৎ করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আমরা ১১২-তে ফোন করার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে এবং তাকে Mater Dei হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্রুত পদক্ষেপের কারণে তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা দ্রুত তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। EHIC কার্ড থাকলে জরুরি পরিবহন বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা ভীষণ পেশাদার এবং মানবিক। তারা শুধু রোগের চিকিৎসাই করেন না, রোগীর মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেন। এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল, কারণ নতুন দেশে এসে অসুস্থ হলে মানসিক সাপোর্টটা খুব দরকার হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এবং রেফারেল প্রক্রিয়া

মাল্টায় বিভিন্ন রোগের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবাও পাওয়া যায়। তবে, সাধারণত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা জেনারেল প্র্যাকটিশনারের (GP) মাধ্যমে রেফারেল নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। আমার যখন হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়, তখন প্রথমে আমার GP-এর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করেন। এই রেফারেল প্রক্রিয়াটা একটু সময়সাপেক্ষ মনে হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছানো যায়। Mater Dei হাসপাতালে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভাগ আছে, যেখানে উন্নত মানের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়াও, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল যেমন সেন্ট থমাস হসপিটাল (St Thomas Hospital) অর্থোপেডিক্স, স্ত্রীরোগবিদ্যা (Gynecology) এবং চর্মরোগের (Dermatology) মতো বিশেষায়িত সেবা প্রদান করে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই প্রক্রিয়া মেনে চললে আপনি মাল্টার স্বাস্থ্যসেবার সেরাটা পেতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবার ট্রেন্ড এবং ভবিষ্যৎ দিক

মাল্টা একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র হলেও, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তারা বেশ সক্রিয়। আমি দেখছি, দিন দিন এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নতুন নতুন প্রযুক্তি আর পদ্ধতি যুক্ত হচ্ছে। আমাদের মতো প্রবাসীদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা মানেই সুস্থ জীবন, আর সুস্থ থাকলে মনটাও ফুরফুরে থাকে। ইইউ (EU) সদস্য হওয়ায় মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি ব্রিটিশ সিস্টেমের মতোই বিনামূল্যে পরিষেবা প্রদান করে।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং আধুনিকীকরণ

মাল্টায় এখন ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার দিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ই-হেলথ রেকর্ড, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম – এগুলোর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আমি শুনেছি, অনেক দেশেই এখন টেলিমেডিসিন খুব জনপ্রিয়, আর মাল্টাও এই দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে ডাক্তার দেখানো বা পরামর্শ নেওয়াটা আরও সহজ হয়ে যাবে, বিশেষ করে আমাদের মতো ব্যস্ত প্রবাসীদের জন্য। আমি নিজে একজন ডাক্তারের সাথে অনলাইনে পরামর্শ করার কথা ভাবছি, কারণ এতে সময় বাঁচে আর যাতায়াতের ঝক্কি এড়ানো যায়। Mater Dei হাসপাতালকে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক মেডিকেল বিল্ডিং হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ৭,০০০ এর বেশি রুম রয়েছে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত। এই আধুনিকীকরণ নিঃসন্দেহে রোগীদের জন্য আরও ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।

নতুন সুবিধা এবং উন্নত প্রযুক্তির আগমন

মাল্টার স্বাস্থ্য খাত সবসময় নতুন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। আমি জানি, এখানকার হাসপাতালগুলোতে নিয়মিতভাবে নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম যোগ করা হয় এবং ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা বিশ্বের সেরা পরিষেবা দিতে পারেন। Mater Dei হাসপাতাল শুধু সাধারণ যত্নের জন্যই নয়, শিক্ষাদানকারী হাসপাতাল হিসেবেও কাজ করে, যেখানে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ পায়। অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মের ডাক্তাররাও অত্যাধুনিক পরিবেশে বেড়ে উঠছেন। এই বিনিয়োগগুলো নিঃসন্দেহে এখানকার স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। আমার তো মনে হয়, যেকোনো প্রবাসী এখানে এসে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে, কারণ চিকিৎসা নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা থাকবে না।

Advertisement

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কতটা ভালো, তা বোঝার জন্য এর তুলনামূলক চিত্রটা জানা জরুরি। ২০০৫ সালে, মাল্টা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিল। এটা শুনে আমি প্রথম যখন মাল্টায় আসার কথা ভাবি, তখন আরও উৎসাহিত হয়েছিলাম। কারণ এর মানে হলো, এখানকার স্বাস্থ্যসেবার মান সত্যিই উন্নত। আমাদের দেশের তুলনায় এখানকার মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই একটা ভালো মান বজায় রাখা হয়।

বৈশিষ্ট্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা
খরচ সাধারণত বিনামূল্যে (সামাজিক নিরাপত্তা অবদানকারীদের জন্য) খরচ বেশি, বীমার প্রয়োজন হতে পারে
অপেক্ষার সময় বিশেষজ্ঞ দেখানোর জন্য অপেক্ষার সময় বেশি হতে পারে অপেক্ষার সময় তুলনামূলকভাবে কম
হাসপাতাল/ক্লিনিক Mater Dei Hospital, Karin Grech Hospital, Gozo General Hospital, Health Centres Saint James Hospital Group, DaVinci Hospital, Saint Thomas Hospital
প্রাপ্যতা দ্বীপজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে শহরকেন্দ্রিক বেশি, তবে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়

অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অনেকটা ব্রিটিশ সিস্টেমের মতোই, যেখানে চিকিৎসা পরিষেবা সাধারণত বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমি দেখেছি, অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় এখানকার চিকিৎসা খরচ ব্যক্তিগতভাবেও অনেক সাশ্রয়ী। বিশেষ করে, যখন আপনি একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে থাকেন, তখন খরচ নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয় না। ইউরোপীয় স্বাস্থ্য গ্রাহক সূচক (Euro Health Consumer Index) অনুযায়ী, মাল্টা ২০১৪ সালে ২৭তম অবস্থান থেকে ২০১৫ সালে ২৩তম অবস্থানে উঠে এসেছিল, যা তাদের সেবার মান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। যদিও বলা হয়, তাদের চিকিৎসার ফলাফল (treatment results) খুব বেশি উল্লেখযোগ্য নয়, তবে সেবার সহজলভ্যতা (decent accessibility) ভালো। আমার মনে হয়, একজন প্রবাসী হিসেবে আপনি যদি এখানকার সিস্টেমটা একটু বুঝে নিতে পারেন, তাহলে এখানকার স্বাস্থ্যসেবা আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।

প্রবাসীদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা

আমার পরিচিত অনেক প্রবাসী বন্ধু এখানকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো অভিযোগ থাকে, তবে বেশিরভাগই ইতিবাচক। যেমন, অপেক্ষার সময় নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে, কিন্তু সেবার মান নিয়ে সাধারণত কোনো অভিযোগ থাকে না। এক বন্ধু আমাকে বলছিল, তার বাচ্চার অসুস্থতার সময় Mater Dei হাসপাতালের নার্সরা যে যত্ন নিয়েছিল, সেটা সে কখনোই ভুলতে পারবে না। তাদের আন্তরিকতা আর পেশাদারিত্ব সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। আমার মনে হয়, নতুন পরিবেশে এসে এমন মানবিক সেবা পাওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ভরসা।

মাল্টায় ঔষধের সহজলভ্যতা ও ফার্মেসি ব্যবস্থা

মাল্টায় এসে সুস্থ থাকতে হলে ঔষধের সহজলভ্যতা সম্পর্কে জানাটাও জরুরি। এখানকার ফার্মেসিগুলো বেশ সুসংগঠিত এবং আধুনিক। আমার দেখেছি, বেশিরভাগ জায়গায় সহজেই ফার্মেসি খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রগুলোতে বা শপিং মলের আশেপাশে ফার্মেসিগুলো সাধারণত লম্বা সময় ধরে খোলা থাকে। কিছু ফার্মেসি রাতেও খোলা থাকে, যা জরুরি অবস্থার জন্য খুবই দরকারি।

ফার্মেসির ধরন এবং ঔষধ কেনার নিয়ম

মাল্টায় সাধারণত দু’ধরনের ফার্মেসি দেখা যায়: কমিউনিটি ফার্মেসি এবং হাসপাতাল ফার্মেসি। কমিউনিটি ফার্মেসিগুলো আমাদের দেশের ঔষধের দোকানের মতোই, যেখানে আপনি প্রেসক্রিপশন নিয়ে ঔষধ কিনতে পারবেন। অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার জন্য ছোটখাটো ঔষধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়, যেমন ব্যথানাশক বা কাশির সিরাপ। তবে, অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ঔষধের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন লাগবে। হাসপাতাল ফার্মেসিগুলো সাধারণত হাসপাতালের ভেতরেই থাকে এবং ভর্তি রোগীদের জন্য ঔষধ সরবরাহ করে। আমার অভিজ্ঞতা হলো, এখানকার ফার্মাসিস্টরা খুব অভিজ্ঞ এবং তাদের কাছ থেকে ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে ভালো পরামর্শ পাওয়া যায়। একবার আমার ঠান্ডা লেগেছিল, তখন ফার্মাসিস্ট আমাকে কিছু ঘরোয়া টোটকা এবং একটি সাধারণ কাশির সিরাপের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা বেশ কার্যকরী ছিল।

প্রেসক্রিপশন এবং ঔষধের খরচ

মাল্টায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করালে অনেক সময় ঔষধের খরচ বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বিশেষ করে যদি তা সরকারি ফর্মুলার অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে, সব ঔষধের জন্য এটা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কিছু ঔষধের জন্য আপনাকে টাকা দিতে হতে পারে। বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তার দেখালে ঔষধের খরচ সম্পূর্ণটাই আপনাকে বহন করতে হবে। আমার মনে হয়, একটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি যে, আপনি যদি UK-এর নাগরিক হন এবং মাল্টায় থাকেন, তবে আপনার প্রেসক্রিপশন করা ওষুধের জন্য কিছু খরচ হতে পারে। তাই, স্বাস্থ্য বীমার ক্ষেত্রে ঔষধের কভারেজ আছে কিনা, সেটা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আমার ব্যক্তিগতভাবে ঔষধের খরচ নিয়ে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয়নি, কারণ আমার বীমা বেশিরভাগ ঔষধের খরচ কভার করে।

Advertisement

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের চাবিকাঠি: EHIC এবং অন্যান্য কার্ড

মাল্টায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য কিছু কার্ড বা ডকুমেন্ট থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে European Health Insurance Card (EHIC) অন্যতম। আমি দেখেছি, এই কার্ড থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে থাকার সময় জরুরি চিকিৎসা পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু শুধু EHIC থাকলেই হবে না, মাল্টায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলে বা কাজ করলে আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

European Health Insurance Card (EHIC)

EHIC কার্ড আপনাকে ইউরোপের দেশগুলোতে, মাল্টাসহ, সাময়িক থাকার সময় চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে সাহায্য করে। এটা কিন্তু বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়। আমার এক বন্ধু সম্প্রতি অন্য একটি ইউরোপীয় দেশে ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় সে EHIC কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছে। এই কার্ডটা থাকলে অপ্রত্যাশিত অসুস্থতায় আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। তবে, মনে রাখবেন, EHIC কার্ড স্থায়ীভাবে চিকিৎসার খরচ কভার করে না, এটি শুধুমাত্র সাময়িক ভিজিটের জন্য প্রযোজ্য।

বাসিন্দাদের জন্য অন্যান্য হেলথ কার্ড

আপনি যদি মাল্টায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বসবাস করেন এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি কন্ট্রিবিউশন দেন, তবে আপনি মাল্টার নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অধীনে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এক্ষেত্রে, আপনার রেসিডেন্স কার্ডই আপনার পরিচয়ের প্রধান দলিল। আমার এক পরিচিতজন মাল্টায় কাজ করেন এবং তার রেসিডেন্স কার্ড দিয়ে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা পান। এছাড়াও, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন UK-এর নাগরিকরা S1 ফর্ম রেজিস্টার করে এখানকার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন। তাই, আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন কার্ড বা ডকুমেন্ট আপনার জন্য প্রযোজ্য, সেটা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো। আমি সবসময় পরামর্শ দিই, মাল্টায় আসার আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন, যাতে পরে কোনো সমস্যায় না পড়েন।

এই ছিল মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা আর কিছু দরকারি তথ্য। আশা করি, যারা মাল্টায় আসার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই পোস্টটা অনেক উপকারে আসবে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবার দুটি দিক: সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থা

Advertisement

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাটা মূলত দুটো ভাগে বিভক্ত – সরকারি এবং বেসরকারি। অনেকটা আমাদের দেশের মতোই, তবে ওদের পরিষেবা আর মানের দিক থেকে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। আমি যখন প্রথম মাল্টায় আসি, তখন সরকারি হাসপাতালের ভিড় দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, এখানকার সরকারি হাসপাতালগুলো, যেমন ‘Mater Dei Hospital’, আধুনিক সব সরঞ্জাম আর অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ভরা। সত্যি বলতে, Mater Dei হাসপাতাল ইউরোপের অন্যতম বড় একটা মেডিক্যাল কমপ্লেক্স। মজার ব্যাপার হলো, এখানকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো (Health Centres) দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে, যা সাধারণ অসুস্থতার জন্য দারুণ কার্যকরী। এখানে জরুরি অবস্থার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও আছে, যা European Health Insurance Card (EHIC) থাকলে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা মাল্টার বাসিন্দাদের জন্য, যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি কন্ট্রিবিউশন দেন, তাদের জন্য প্রায় বিনামূল্যে। আমার এক বন্ধু সম্প্রতি Mater Dei হাসপাতালে তার ছোটখাটো একটি সার্জারি করিয়েছে, আর সে আমাকে বলছিল যে তাকে শুধুমাত্র কিছু ওষুধের জন্য টাকা দিতে হয়েছে, বাকি সব খরচ সরকার বহন করেছে। এটা সত্যিই অসাধারণ একটা ব্যাপার, বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের দেশের চিকিৎসা খরচের কথা ভাবি। তবে, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য বা কোনো বিশেষ পরীক্ষা করানোর জন্য অপেক্ষার সময়টা একটু বেশি হতে পারে। অনেকেই এর জন্য ধৈর্য্য হারাতে পারেন। বিশেষ করে যারা দ্রুত চিকিৎসা চান, তাদের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ বটে। জরুরি বিভাগ অবশ্য সবসময় খোলা থাকে, আর আমি শুনেছি সেখানকার কর্মীরা দারুণ দক্ষ। একবার আমার পরিচিত একজন ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়েছিল, তাকে সঙ্গে সঙ্গে Mater Dei-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, জরুরি অবস্থার জন্য এখানকার সরকারি ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প ও খরচ

몰타 의료 시스템 - **Personalized Private Clinic Consultation:** A serene and tastefully furnished private clinic consu...
সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি মাল্টায় বেশ কিছু উন্নত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে, যেমন ‘Saint James Hospital Group’ বা ‘DaVinci Hospital’। আমার মনে হয়েছে, যারা দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট চান বা অপেক্ষার ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের জন্য বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা একটা দারুণ বিকল্প। যদিও এখানে চিকিৎসা খরচটা সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেশি, তবে গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হয় না। আমার এক সহকর্মী সম্প্রতি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে দাঁতের চিকিৎসা করিয়েছেন এবং তিনি সেবার মান নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটাই খুব মসৃণ ছিল। এখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারও পাওয়া যায়, যেখানে আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ডাক্তার দেখাতে পারবেন। তবে, বেসরকারি চিকিৎসায় খরচ বেশি হওয়ায় অনেকেই স্বাস্থ্য বীমা করে রাখেন। আমি নিজেও একটা বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা করিয়েছি, কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অসুস্থতায় যাতে আর্থিক চাপ না পড়ে, সেটা আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম।

প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা: কেন জরুরি?

মাল্টায় বসবাসকারী প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা থাকাটা একরকম বাধ্যতামূলক। আপনারা তো জানেন, নতুন দেশে এসে সুস্থ থাকাটা কতটা জরুরি। আমি নিজেও যখন মাল্টায় পাড়ি জমাই, তখন স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি। সত্যি বলতে, একটা ভালো স্বাস্থ্য বীমা আপনার বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতাটাকে অনেক সহজ করে দেয়। মাল্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা করার পরামর্শ দেয়। আমি দেখেছি, এখানকার বিভিন্ন বীমা কোম্পানি প্রবাসীদের জন্য নানা ধরনের প্ল্যান অফার করে। কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, সেটা আপনার প্রয়োজন আর বাজেটের ওপর নির্ভর করে।

বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য বীমা এবং তাদের বৈশিষ্ট্য

মাল্টায় প্রবাসীদের জন্য সাধারণত দুই ধরনের স্বাস্থ্য বীমা পাওয়া যায়: ট্র্যাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স (ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা) এবং ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স (আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা)। ট্র্যাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য কার্যকরী, যেমন ভিসার আবেদনের সময় বা প্রথম কয়েক মাসের জন্য। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাল্টায় থাকতে চান, তাহলে ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ অনেক বেশি বিস্তৃত হয়। এতে শুধু জরুরি চিকিৎসাই নয়, নিয়মিত ডাক্তারের ভিজিট, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের খরচও কভার করে। কিছু কিছু বীমা পলিসি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চিকিৎসা কভারেজ দেয়, যা প্রবাসীদের জন্য দারুণ একটা সুবিধা। আমি নিজে একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বীমা নিয়েছি, যেখানে মাল্টা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের জন্য কভারেজ আছে। এতে আমার মনে একটা শান্তি থাকে যে, কোনো সমস্যা হলে আর্থিক চিন্তা করতে হবে না।

বীমা নির্বাচনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

স্বাস্থ্য বীমা বেছে নেওয়ার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা খুব জরুরি। প্রথমত, কভারেজের সীমাটা দেখে নেবেন। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কভারেজ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করুন। দ্বিতীয়ত, বীমার প্রিমিয়াম বা মাসিক/বার্ষিক খরচটা আপনার বাজেটের মধ্যে আছে কিনা, তা যাচাই করুন। তৃতীয়ত, বীমা কোম্পানির সুনাম আর তাদের কাস্টমার সার্ভিস কেমন, সেটাও জেনে নেওয়া ভালো। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন বীমা করেছিলাম, তখন একটি পরিচিত কোম্পানির হেল্পলাইনে ফোন করে অনেক প্রশ্ন করেছিলাম। তারা খুব ধৈর্য ধরে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল, যা আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া, বীমার শর্তাবলী (terms and conditions) ভালোভাবে পড়ে নিন। কোন ধরনের চিকিৎসা কভার হবে আর কোনটি হবে না, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। residency card (রেসিডেন্সি কার্ড) আবেদনের জন্য সঠিক বীমা পলিসি থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল বীমার কারণে আবেদন বাতিলও হতে পারে।

জরুরি পরিষেবা এবং বিশেষায়িত যত্ন: কী আশা করবেন?

জীবন তো! কখন কী ঘটে বলা যায় না। তাই মাল্টায় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কেমন, সেটা জেনে রাখা খুব জরুরি। এখানকার জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী। যখনই আমার কোনো পরিচিত জনের হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি, দেখেছি সেখানকার জরুরি দলগুলো দ্রুত সাড়া দিয়েছে। সরকারি Mater Dei হাসপাতালই হলো মাল্টার প্রধান জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র। আমি মনে করি, যে কোনো প্রবাসীর জন্য এখানকার জরুরি ফোন নম্বরগুলো (যেমন ১১২) মুখস্থ রাখাটা ভীষণ দরকার।

Advertisement

জরুরি অবস্থায় যা করবেন

যদি কোনো জরুরি অবস্থা তৈরি হয়, তবে দ্বিধা না করে ১১২ নম্বরে ফোন করুন। আমার এক বন্ধু একবার হঠাৎ করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আমরা ১১২-তে ফোন করার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে এবং তাকে Mater Dei হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্রুত পদক্ষেপের কারণে তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা দ্রুত তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। EHIC কার্ড থাকলে জরুরি পরিবহন বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা ভীষণ পেশাদার এবং মানবিক। তারা শুধু রোগের চিকিৎসাই করেন না, রোগীর মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেন। এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল, কারণ নতুন দেশে এসে অসুস্থ হলে মানসিক সাপোর্টটা খুব দরকার হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এবং রেফারেল প্রক্রিয়া

মাল্টায় বিভিন্ন রোগের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবাও পাওয়া যায়। তবে, সাধারণত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা জেনারেল প্র্যাকটিশনারের (GP) মাধ্যমে রেফারেল নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। আমার যখন হাঁটুতে ব্যথা শুরু হয়, তখন প্রথমে আমার GP-এর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করেন। এই রেফারেল প্রক্রিয়াটা একটু সময়সাপেক্ষ মনে হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছানো যায়। Mater Dei হাসপাতালে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভাগ আছে, যেখানে উন্নত মানের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়াও, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল যেমন সেন্ট থমাস হসপিটাল (St Thomas Hospital) অর্থোপেডিক্স, স্ত্রীরোগবিদ্যা (Gynecology) এবং চর্মরোগের (Dermatology) মতো বিশেষায়িত সেবা প্রদান করে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই প্রক্রিয়া মেনে চললে আপনি মাল্টার স্বাস্থ্যসেবার সেরাটা পেতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবার ট্রেন্ড এবং ভবিষ্যৎ দিক

মাল্টা একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র হলেও, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তারা বেশ সক্রিয়। আমি দেখছি, দিন দিন এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নতুন নতুন প্রযুক্তি আর পদ্ধতি যুক্ত হচ্ছে। আমাদের মতো প্রবাসীদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা মানেই সুস্থ জীবন, আর সুস্থ থাকলে মনটাও ফুরফুরে থাকে। ইইউ (EU) সদস্য হওয়ায় মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি ব্রিটিশ সিস্টেমের মতোই বিনামূল্যে পরিষেবা প্রদান করে।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং আধুনিকীকরণ

মাল্টায় এখন ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার দিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ই-হেলথ রেকর্ড, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম – এগুলোর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আমি শুনেছি, অনেক দেশেই এখন টেলিমেডিসিন খুব জনপ্রিয়, আর মাল্টাও এই দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে ডাক্তার দেখানো বা পরামর্শ নেওয়াটা আরও সহজ হয়ে যাবে, বিশেষ করে আমাদের মতো ব্যস্ত প্রবাসীদের জন্য। আমি নিজে একজন ডাক্তারের সাথে অনলাইনে পরামর্শ করার কথা ভাবছি, কারণ এতে সময় বাঁচে আর যাতায়াতের ঝক্কি এড়ানো যায়। Mater Dei হাসপাতালকে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক মেডিকেল বিল্ডিং হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ৭,০০০ এর বেশি রুম রয়েছে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত। এই আধুনিকীকরণ নিঃসন্দেহে রোগীদের জন্য আরও ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।

নতুন সুবিধা এবং উন্নত প্রযুক্তির আগমন

মাল্টার স্বাস্থ্য খাত সবসময় নতুন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। আমি জানি, এখানকার হাসপাতালগুলোতে নিয়মিতভাবে নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম যোগ করা হয় এবং ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা বিশ্বের সেরা পরিষেবা দিতে পারেন। Mater Dei হাসপাতাল শুধু সাধারণ যত্নের জন্যই নয়, শিক্ষাদানকারী হাসপাতাল হিসেবেও কাজ করে, যেখানে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ পায়। অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মের ডাক্তাররাও অত্যাধুনিক পরিবেশে বেড়ে উঠছেন। এই বিনিয়োগগুলো নিঃসন্দেহে এখানকার স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। আমার তো মনে হয়, যেকোনো প্রবাসী এখানে এসে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে, কারণ চিকিৎসা নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা থাকবে না।

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কতটা ভালো, তা বোঝার জন্য এর তুলনামূলক চিত্রটা জানা জরুরি। ২০০৫ সালে, মাল্টা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিল। এটা শুনে আমি প্রথম যখন মাল্টায় আসার কথা ভাবি, তখন আরও উৎসাহিত হয়েছিলাম। কারণ এর মানে হলো, এখানকার স্বাস্থ্যসেবার মান সত্যিই উন্নত। আমাদের দেশের তুলনায় এখানকার মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই একটা ভালো মান বজায় রাখা হয়।

বৈশিষ্ট্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা
খরচ সাধারণত বিনামূল্যে (সামাজিক নিরাপত্তা অবদানকারীদের জন্য) খরচ বেশি, বীমার প্রয়োজন হতে পারে
অপেক্ষার সময় বিশেষজ্ঞ দেখানোর জন্য অপেক্ষার সময় বেশি হতে পারে অপেক্ষার সময় তুলনামূলকভাবে কম
হাসপাতাল/ক্লিনিক Mater Dei Hospital, Karin Grech Hospital, Gozo General Hospital, Health Centres Saint James Hospital Group, DaVinci Hospital, Saint Thomas Hospital
প্রাপ্যতা দ্বীপজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে শহরকেন্দ্রিক বেশি, তবে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়
Advertisement

অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অনেকটা ব্রিটিশ সিস্টেমের মতোই, যেখানে চিকিৎসা পরিষেবা সাধারণত বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমি দেখেছি, অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় এখানকার চিকিৎসা খরচ ব্যক্তিগতভাবেও অনেক সাশ্রয়ী। বিশেষ করে, যখন আপনি একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে থাকেন, তখন খরচ নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয় না। ইউরোপীয় স্বাস্থ্য গ্রাহক সূচক (Euro Health Consumer Index) অনুযায়ী, মাল্টা ২০১৪ সালে ২৭তম অবস্থান থেকে ২০১৫ সালে ২৩তম অবস্থানে উঠে এসেছিল, যা তাদের সেবার মান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। যদিও বলা হয়, তাদের চিকিৎসার ফলাফল (treatment results) খুব বেশি উল্লেখযোগ্য নয়, তবে সেবার সহজলভ্যতা (decent accessibility) ভালো। আমার মনে হয়, একজন প্রবাসী হিসেবে আপনি যদি এখানকার সিস্টেমটা একটু বুঝে নিতে পারেন, তাহলে এখানকার স্বাস্থ্যসেবা আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।

প্রবাসীদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা

আমার পরিচিত অনেক প্রবাসী বন্ধু এখানকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো অভিযোগ থাকে, তবে বেশিরভাগই ইতিবাচক। যেমন, অপেক্ষার সময় নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে, কিন্তু সেবার মান নিয়ে সাধারণত কোনো অভিযোগ থাকে না। এক বন্ধু আমাকে বলছিল, তার বাচ্চার অসুস্থতার সময় Mater Dei হাসপাতালের নার্সরা যে যত্ন নিয়েছিল, সেটা সে কখনোই ভুলতে পারবে না। তাদের আন্তরিকতা আর পেশাদারিত্ব সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। আমার মনে হয়, নতুন পরিবেশে এসে এমন মানবিক সেবা পাওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ভরসা।

মাল্টায় ঔষধের সহজলভ্যতা ও ফার্মেসি ব্যবস্থা

মাল্টায় এসে সুস্থ থাকতে হলে ঔষধের সহজলভ্যতা সম্পর্কে জানাটাও জরুরি। এখানকার ফার্মেসিগুলো বেশ সুসংগঠিত এবং আধুনিক। আমি দেখেছি, বেশিরভাগ জায়গায় সহজেই ফার্মেসি খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রগুলোতে বা শপিং মলের আশেপাশে ফার্মেসিগুলো সাধারণত লম্বা সময় ধরে খোলা থাকে। কিছু ফার্মেসি রাতেও খোলা থাকে, যা জরুরি অবস্থার জন্য খুবই দরকারি।

ফার্মেসির ধরন এবং ঔষধ কেনার নিয়ম

মাল্টায় সাধারণত দু’ধরনের ফার্মেসি দেখা যায়: কমিউনিটি ফার্মেসি এবং হাসপাতাল ফার্মেসি। কমিউনিটি ফার্মেসিগুলো আমাদের দেশের ঔষধের দোকানের মতোই, যেখানে আপনি প্রেসক্রিপশন নিয়ে ঔষধ কিনতে পারবেন। অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার জন্য ছোটখাটো ঔষধ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়, যেমন ব্যথানাশক বা কাশির সিরাপ। তবে, অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ঔষধের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন লাগবে। হাসপাতাল ফার্মেসিগুলো সাধারণত হাসপাতালের ভেতরেই থাকে এবং ভর্তি রোগীদের জন্য ঔষধ সরবরাহ করে। আমার অভিজ্ঞতা হলো, এখানকার ফার্মাসিস্টরা খুব অভিজ্ঞ এবং তাদের কাছ থেকে ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে ভালো পরামর্শ পাওয়া যায়। একবার আমার ঠান্ডা লেগেছিল, তখন ফার্মাসিস্ট আমাকে কিছু ঘরোয়া টোটকা এবং একটি সাধারণ কাশির সিরাপের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা বেশ কার্যকরী ছিল।

প্রেসক্রিপশন এবং ঔষধের খরচ

মাল্টায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করালে অনেক সময় ঔষধের খরচ বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বিশেষ করে যদি তা সরকারি ফর্মুলার অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে, সব ঔষধের জন্য এটা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কিছু ঔষধের জন্য আপনাকে টাকা দিতে হতে পারে। বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তার দেখালে ঔষধের খরচ সম্পূর্ণটাই আপনাকে বহন করতে হবে। আমার মনে হয়, একটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি যে, আপনি যদি UK-এর নাগরিক হন এবং মাল্টায় থাকেন, তবে আপনার প্রেসক্রিপশন করা ওষুধের জন্য কিছু খরচ হতে পারে। তাই, স্বাস্থ্য বীমার ক্ষেত্রে ঔষধের কভারেজ আছে কিনা, সেটা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আমার ব্যক্তিগতভাবে ঔষধের খরচ নিয়ে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয়নি, কারণ আমার বীমা বেশিরভাগ ঔষধের খরচ কভার করে।

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের চাবিকাঠি: EHIC এবং অন্যান্য কার্ড

Advertisement

মাল্টায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য কিছু কার্ড বা ডকুমেন্ট থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে European Health Insurance Card (EHIC) অন্যতম। আমি দেখেছি, এই কার্ড থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে থাকার সময় জরুরি চিকিৎসা পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু শুধু EHIC থাকলেই হবে না, মাল্টায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলে বা কাজ করলে আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

European Health Insurance Card (EHIC)

EHIC কার্ড আপনাকে ইউরোপের দেশগুলোতে, মাল্টাসহ, সাময়িক থাকার সময় চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে সাহায্য করে। এটা কিন্তু বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়। আমার এক বন্ধু সম্প্রতি অন্য একটি ইউরোপীয় দেশে ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় সে EHIC কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছে। এই কার্ডটা থাকলে অপ্রত্যাশিত অসুস্থতায় আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। তবে, মনে রাখবেন, EHIC কার্ড স্থায়ীভাবে চিকিৎসার খরচ কভার করে না, এটি শুধুমাত্র সাময়িক ভিজিটের জন্য প্রযোজ্য।

বাসিন্দাদের জন্য অন্যান্য হেলথ কার্ড

আপনি যদি মাল্টায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বসবাস করেন এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি কন্ট্রিবিউশন দেন, তবে আপনি মাল্টার নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অধীনে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এক্ষেত্রে, আপনার রেসিডেন্স কার্ডই আপনার পরিচয়ের প্রধান দলিল। আমার এক পরিচিতজন মাল্টায় কাজ করেন এবং তার রেসিডেন্স কার্ড দিয়ে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা পান। এছাড়াও, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন UK-এর নাগরিকরা S1 ফর্ম রেজিস্টার করে এখানকার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন। তাই, আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন কার্ড বা ডকুমেন্ট আপনার জন্য প্রযোজ্য, সেটা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো। আমি সবসময় পরামর্শ দিই, মাল্টায় আসার আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন, যাতে পরে কোনো সমস্যায় না পড়েন।

এই ছিল মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা আর কিছু দরকারি তথ্য। আশা করি, যারা মাল্টায় আসার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই পোস্টটা অনেক উপকারে আসবে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!

글을 마치며

বন্ধুরা, মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আর আপনাদের সাথে ভাগ করে নেওয়া এই তথ্যগুলো কতটা উপকারী হয়েছে, সেটা জানতে পারলে আমি খুবই আনন্দিত হব!

প্রবাসে এসে সুস্থ থাকাটা যে কতটা জরুরি, সেটা আমরা সবাই হাড়ে হাড়ে বুঝি। তাই এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা থাকাটা খুবই দরকার। আমার মনে হয়েছে, মাল্টা তার ছোট আকারের তুলনায় বেশ উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা দেয়, যা অনেক সময় আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে এখানকার কর্মীদের আন্তরিকতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলো সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আপনারা যদি আমার মতো প্রবাস জীবন শুরু করতে চান, তাহলে এখানকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। শুধু দরকার একটু পরিকল্পনা আর সঠিক তথ্য জেনে রাখা। আশা করি, আমার এই পোস্টটি আপনাদের সেই পথচলায় কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আর মাল্টার সুন্দর দিনগুলো উপভোগ করুন!

알아두면 쓸মো 있는 정보

১. সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রায় বিনামূল্যে হলেও, কিছু ওষুধের জন্য খরচ লাগতে পারে, তাই বাজেট করার সময় এটা মাথায় রাখুন।

২. বেসরকারি হাসপাতালে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং ভালো পরিষেবা পাওয়া যায়, তবে এর জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. European Health Insurance Card (EHIC) শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসার জন্য এবং সাময়িক থাকার সময় কার্যকরী, স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য অন্য বীমা জরুরি।

৪. মাল্টায় জরুরি অবস্থার জন্য ১১২ নম্বরে ফোন করুন, এবং সবসময় আপনার হেলথ কার্ড বা রেসিডেন্স কার্ড হাতের কাছে রাখুন।

৫. যেকোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার আগে একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনারের (GP) রেফারেল নেওয়া জরুরি, এটি এখানকার স্বাস্থ্যসেবার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া।

Advertisement

중요 사항 정리

মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা মূলত সরকারি ও বেসরকারি এই দুটি ধারায় বিভক্ত, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় ব্রিটিশ মডেলের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। সরকারি Mater Dei Hospital আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা অবদানকারীদের জন্য প্রায় বিনামূল্যে পরিষেবা প্রদান করে, তবে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, Saint James Hospital Group বা DaVinci Hospital-এর মতো বেসরকারি হাসপাতালগুলো দ্রুত ও উন্নত মানের সেবা দেয়, যা ব্যয়বহুল হলেও স্বাস্থ্য বীমার মাধ্যমে কভার করা সম্ভব। প্রবাসীদের জন্য, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদে মাল্টায় বসবাস করছেন, তাদের জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা অপরিহার্য। এটি কেবল ভিসার জন্যই নয়, অপ্রত্যাশিত অসুস্থতায় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। জরুরি অবস্থায় ১১২ নম্বরে ফোন করলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়া যায়। এখানকার ফার্মেসিগুলোও সুসংগঠিত, তবে অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ওষুধের জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন আবশ্যক। EHIC কার্ড ইউরোপীয় দেশগুলোতে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য জরুরি চিকিৎসা কভার করলেও, মাল্টার স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আসতে রেসিডেন্স কার্ড বা S1 ফর্ম (UK নাগরিকদের জন্য) প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রবাসীদের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক, শুধু সঠিক নিয়মকানুন জানা থাকলে কোনো সমস্যা হয় না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কেমন, আর প্রবাসীদের জন্য এখানে কী ধরনের সুবিধা আছে?

উ: সত্যি বলতে, মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বেশ উন্নত মানের। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখানে সরকারি এবং বেসরকারি – দুই ধরনের সেবাই খুব দক্ষতার সাথে পরিচালনা করা হয়। আপনি হয়তো ভাবছেন, ছোট একটা দেশ, তাদের স্বাস্থ্যসেবা আর কতটাই বা ভালো হবে?
কিন্তু বিশ্বাস করুন, এদের হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে ডাক্তারের পেশাদারিত্ব – সবকিছুই বেশ প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে যারা প্রবাস থেকে আসছেন, তাদের জন্য একটা চমৎকার বিষয় হলো, এখানে সব নাগরিকের জন্য প্রায় বিনামূল্যে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়। সাধারণ চিকিৎসকদের পরামর্শ বা কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে খুব কম খরচ হয় বা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে, প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক স্বাস্থ্য বীমা থাকা। মাল্টায় কাজের ভিসা পেতে গেলে তো স্বাস্থ্য বীমা থাকা আবশ্যক। এই বীমা থাকলে আপনি সরকারি এবং অনেক বেসরকারি ক্লিনিকে বেশ ভালো সুবিধা পাবেন, যা আপনার অসুস্থতার সময়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। আমি দেখেছি, এখানে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া খুব একটা কঠিন না, আর প্রয়োজনে রেফারেল সিস্টেমও বেশ সুসংগঠিত। এক কথায়, সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য মাল্টার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আপনাকে বেশ স্বস্তি দেবে।

প্র: মাল্টায় স্বাস্থ্য বীমা কি বাধ্যতামূলক, এবং একজন প্রবাসী হিসেবে আমি কী ধরনের বীমা নিতে পারি?

উ: হ্যাঁ বন্ধু, মাল্টায় আপনার থাকার জন্য বা কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য বীমা থাকাটা একরকম বাধ্যতামূলকই বলা চলে। বিশেষ করে, মাল্টা ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করলে আপনাকে কমপক্ষে €30,000 কভারেজ সহ ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা কিনতে হবে, যা আপনার পুরো ভ্রমণের জন্য বৈধ থাকে। আমার মনে আছে, যখন প্রথম এখানে আসি, বীমা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল। আসলে এই স্বাস্থ্য বীমাটা আপনার সুরক্ষা কবচ, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা অপ্রত্যাশিত অসুস্থতায় আপনার চিকিৎসার খরচ বহন করবে। মাল্টায় বেশ কিছু বীমা কোম্পানি আছে যারা প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ অফার করে। সাধারণত, আপনি যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিক হন, তাহলে আপনাকে একটি প্রাইভেট হেলথ ইন্স্যুরেন্স নিতে হবে। এই বীমাগুলো সাধারণত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি, অপারেশনের খরচ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এবং কিছু ওষুধের খরচ কভার করে। কেনার আগে অবশ্যই বিভিন্ন কোম্পানির পলিসিগুলো ভালোভাবে দেখে নেবেন, যেন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরাটা বেছে নিতে পারেন। অনেক সময় কোম্পানিগুলো অনলাইন কোটেশনও দেয়, যা তুলনা করার জন্য বেশ কাজে দেয়। এখানে আসার পর রেসিডেন্স কার্ড করার জন্যও হেলথ ইন্স্যুরেন্স জরুরি। তাই বীমা ছাড়া মাল্টায় আসার কথা চিন্তাও করবেন না, কারণ এটি শুধু একটি নিয়মই নয়, আপনার নিজের সুস্থ থাকার চাবিকাঠিও বটে।

প্র: মাল্টায় সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে মূল পার্থক্য কী এবং প্রবাসীরা কোনটা থেকে বেশি সুবিধা পান?

উ: মাল্টায় সরকারি এবং বেসরকারি – দুটো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থারই নিজস্ব গুরুত্ব আছে, আর প্রবাসীরা দুটো থেকেই ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা পেতে পারেন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল সুবিধা হলো, এটি মূলত বিনামূল্যে অথবা খুব কম খরচে পাওয়া যায়, বিশেষ করে মাল্টার নাগরিক এবং যারা তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিবন্ধিত, তাদের জন্য। সরকারি হাসপাতালগুলো আধুনিক এবং এখানে সাধারণত জটিল চিকিৎসার জন্য উন্নত মানের ব্যবস্থা থাকে। তবে, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে একটু সময় লাগতে পারে, বিশেষ করে জরুরি নয় এমন সেবার ক্ষেত্রে। অপরদিকে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় খরচ বেশি হলেও আপনি দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন এবং অনেক সময় নিজের পছন্দসই ডাক্তার বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। বেসরকারি ক্লিনিকে আরামদায়ক পরিবেশ এবং আরও ব্যক্তিগত সেবা পাওয়া যায়। একজন প্রবাসী হিসেবে, যদি আপনার ভালো মানের একটি প্রাইভেট হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকে, তাহলে আপনি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে দারুণ সুবিধা পেতে পারেন। এই বীমা আপনাকে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে খুব বেশি আর্থিক চাপ ছাড়াই চিকিৎসা নিতে সাহায্য করবে। অনেক প্রবাসীই দ্রুত সেবা এবং সুবিধার জন্য বেসরকারি সেবার দিকেই বেশি ঝোঁকেন, যদিও ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য সরকারি জি.পি.
(জেনারেল প্র্যাকটিশনার) সার্ভিসও বেশ কার্যকর। তাই, কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, তা নির্ভর করে আপনার বীমা কভারেজ, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং আপনি কতটা দ্রুত সেবা চাইছেন তার উপর।

📚 তথ্যসূত্র